দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও খেলোয়াড়দের মোট গোলসংখ্যার সঙ্গে যোগ হয়। ফলে এই ম্যাচটি শুধু সম্মানের লড়াই নয়, সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ চালু হয়। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এই ম্যাচও হয়নি। এছাড়া ১৯৫০ সালে প্রতিযোগিতার শেষ পর্ব ভিন্ন পদ্ধতিতে আয়োজন করায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছিল না। ১৯৫৪ সাল থেকে এটি নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তবে সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার হতাশার কারণে এই ম্যাচ খেলতে অনেক ফুটবলারেরই অনীহা থাকে। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও বলেছেন, ‘এই ম্যাচ কেউই খেলতে চায় না।’
তবু ‘গোল্ডেন বুটের’ লড়াইয়ে এই ম্যাচের গুরুত্ব কম নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম এখনো এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ ধরে রেখেছেন।
বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচের আগে আটটি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে সমান গোল হলেও একটি বেশি গোলে সহায়তা করায় ‘গোল্ডেন বুটের’ দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি।
সাত গোল নিয়ে এরপরেই আছেন নরওয়ের এরলিং হালান্ড। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তার গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।
ছয়টি করে গোল করেছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবাল করেছেন পাঁচটি করে গোল।
শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। আর রোববারের ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে খেলবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ফলে ‘গোল্ডেন বুটের’ ভাগ্য নির্ধারণে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ইতিহাসও বলছে, এই ম্যাচ অনেক সময় ‘গোল্ডেন বুট’ নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। এখন পর্যন্ত সাতজন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছেন। এর মধ্যে জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডাভর শুকের (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচি (১৯৯০) এবং ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) ওই ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছিলেন।
এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেগর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) এবং ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন (১৯৫৮) একই আসরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলেও, ওই গোল ছাড়াও তারা ‘গোল্ডেন বুট’ জিততেন।
সূত্র: বিবিসি
/অ